
সাংবাদিক

ভোটের দিনক্ষণ এখনো ঘোষিত হয়নি। সম্ভবত এপ্রিল-মে মাসে ভোট। চলছে ভোটার তালিকা তৈরির চূড়ান্ত প্রস্তুতি। আর এই প্রস্তুতিকে ঘিরেই পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরোধ তুঙ্গে। যুযুধান দুই পক্ষের লড়াই রাজনীতির ময়দান ছাড়িয়ে দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্ট

শুধু মোদি নন, দলমত নির্বিশেষে ভারতের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলই জামায়াতের পরাজয় এবং বিএনপির ক্ষমতায় ফিরে আসাটাকে খুবই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিজেপির বড় ইস্যু ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’। ভোট এলেই তাদের মাথায় দাপিয়ে বেড়ায় ঘুষপেটিয়া বা অনুপ্রবেশের ভূত। তবে ভারতের প্রতিবেশী চীন, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান বা মিয়ানমার নয়; বিজেপির চাই শুধু ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে আম আদমি পার্টির স

ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে নির্বাচিত সরকার বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর বহুদিন ধরে অনাস্থা প্রকট হলেও এ দেশে সেটা ছিল ব্যতিক্রম। ভোট প্রক্রিয়ায় তাদের আস্থা ছিল অটল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠছে তাতে মানুষের আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে। সেই ফাটল কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

ভারত-বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান রসায়ন বোধহয় সৃষ্টিকর্তারও বোধগম্য নয়! এই দুই দেশের কর্তাব্যক্তিরা গলা মেলাচ্ছেন, তো পরক্ষণেই আবার তারা ছুঁড়ছেন গগনভেধী শব্দবাণ। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নায়কেরা যে কী চাইছেন, আমজনতা সেটাই বুঝতে পারছে না। তারা চান বন্ধুত্ব। আত্মীয়তা। নিয়মিত যোগাযোগ।

এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট। রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গত বছর থেকেই। খোদ প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে নিয়মিত রাজ্য সফর করছেন। আসছেন দিল্লির থেকে বিজেপির অন্য নেতা-মন্ত্রীরাও।

জন্মলগ্ন থেকেই ভারতে যুক্তরাষ্ট্র কাঠামো বেশ কিছু নীতি ও আদর্শগত স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে। সেই আলোকেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে সংবিধান প্রণেতারা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেন সংবিধানে।

মানচিত্রে বাংলাদেশ যেমন ভারতের পেটের ভিতরে ঢুকে রয়েছে, তেমনি ত্রিপুরা রাজ্যটাও বাংলাদেশের পেটের ভেতর। মোট ১ হাজার ১৮ কিলোমিটারের সীমান্তের মধ্যে ৮৫৬ কিলোমিটারই বাংলাদেশের সঙ্গে। ৪০ লাখ জনবসতির এই ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্যটির বাঙালি বাসিন্দাদের প্রায় শতভাগেরই পূর্বপুরুষ সাবেক পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাং

আদর্শ নিয়ে দোটানা রয়েছে। কিছু মানুষ বামপন্থায় বিশ্বাসী, আবার ডানপন্থায় বিশ্বাসী কিছু মানুষ। তবে বেশির ভাগই অবশ্য মধ্যপন্থী অবস্থানে। শুনতে সোনার পাথরবাটি মনে হলেও বিচিত্র এই উপমহাদেশে রয়েছে বাম, ডান, সেকুলার, কমিউনাল, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক–হরেক কিসিমের রাজনৈতিক মতাদর্শের ককটেল।

ইদানীং অনেকেই সোনার হরিণের বদলে আওয়াজ তুলছেন, ‘আমার সেভেন সিস্টার চাই, আমার সেভেন সিস্টার চাই!’ কেউ বুঝে, কেউ না বুঝে, আবার কেউ হাওয়া গরম করতে। আরে বাবা, শুধু সেভেন সিস্টার কেন, এই সাত বোন চম্পার তো একটা ভাইও আছে! তাদের এখন আটজনের সংসার! দিল্লির ছাতার তলায় বর্তমানে দিব্যি সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে।

শুধু নেলি কেন, বিহারের ভোটের পর আসামের বিজেপি মন্ত্রী অশোক সিংঘল তার এক্স হ্যান্ডেলে ফুলকপি চাষের একটা ছবি দিয়ে লিখেছেন ‘বিহার অ্যাপ্রুভস গোবি ফার্মিং’। অর্থাৎ বিহার কপি চাষকেই অনুমোদন দিয়েছে। কারণ? ভাগলপুরের ইতিহাস মনে করিয়ে দিতে চাইছেন তিনি। কী হয়েছিল ভাগলপুরে?

সামনেই আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাডু, কেরালা ও পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোট। বিজেপি বিভাজনের রাজনীতিকে পুরোমাত্রায় কাজে লাগাচ্ছে। সঙ্গে থাকছে দলবদলের অংকও। কারণ বিজেপি নেতারা জানেন, ভারতের সাধারণ মানুষ মন থেকেই অসাম্প্রদায়িক।

বিজেপির এই সর্বগ্রাসী প্রচারে বিপরীতে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল নেতারাও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাদের বিভ্রান্ত করাটাই তো বিজেপির কৌশল। বামেরা অবশ্য সীমিত শক্তি নিয়েও এসআইআর মোকাবিলায় বেশ সক্রিয়।